জানেন কি?
সেপ্টেম্বর কেন নবম, অথচ নামের অর্থ সপ্তম?
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি কোথা থেকে এলো, জুলাই-আগস্টের নাম বদলাল কেন, আর আজকের ১২ মাসের ক্যালেন্ডার কীভাবে তৈরি হলো?
আমরা প্রায় প্রতিদিনই তারিখ লিখি।
১৫ সেপ্টেম্বর।
২৭ অক্টোবর।
৩১ ডিসেম্বর।
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, সেপ্টেম্বরের নামের মধ্যে “সাত” কেন লুকিয়ে আছে, অথচ সেপ্টেম্বর বছরের নবম মাস?
October শব্দের সঙ্গে আটের সম্পর্ক। অথচ October আমাদের দশম মাস।
November-এর মধ্যে নয়। December-এর মধ্যে দশ। অথচ November একাদশ এবং December দ্বাদশ।
এটা কি কোনো ভুল?
না।
বরং এই আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত ব্যাপারটির পেছনে লুকিয়ে আছে প্রাচীন রোমের কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস। আজকের ইংরেজি মাসগুলোর নাম মূলত রোমান ক্যালেন্ডারের উত্তরাধিকার। সেই ক্যালেন্ডার কখনো ছিল ১০ মাসের, কখনো ১২ মাসের, কখনো আবার রাজনৈতিক ক্ষমতা, ধর্মীয় বিশ্বাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং শাসকদের ব্যক্তিগত গৌরবের কারণে তার নাম ও কাঠামো বদলেছে।
আর এই ইতিহাসের সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আমরা আজ যে September, October, November ও December বলি, তাদের নাম যেন এখনো কয়েক হাজার বছর আগের একটি পুরোনো ক্যালেন্ডারের সংখ্যা বহন করে চলেছে।
যখন বছর ছিল মাত্র ১০ মাস
প্রাচীন রোমের প্রাথমিক ক্যালেন্ডার সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। রোমান ঐতিহ্য অনুযায়ী, রোমের কিংবদন্তিতুল্য প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম রাজা Romulus-এর সময় একটি ১০ মাসের ক্যালেন্ডারের প্রচলন ছিল।
এই ক্যালেন্ডারে বছর শুরু হতো March বা Martius মাস দিয়ে।
ক্রমটি ছিল:
- Martius
- Aprilis
- Maius
- Junius
- Quintilis
- Sextilis
- September
- October
- November
- December
অর্থাৎ আজকের January ও February তখন এই তালিকায় ছিল না।
প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, প্রাথমিক রোমান বছরের মোট গণনা ছিল প্রায় ৩০৪ দিন। বছরের শেষে শীতের একটি সময় ক্যালেন্ডারের নির্দিষ্ট মাসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। Royal Observatory of Belgium-ও সতর্ক করে বলেছে যে এই প্রাথমিক ১০ মাসের ক্যালেন্ডারের বিবরণ আংশিকভাবে কিংবদন্তি এবং পরবর্তী ঐতিহ্যের ওপর নির্ভরশীল।
এখানেই লুকিয়ে আছে September থেকে December-এর রহস্য।
September আসলে সপ্তম ছিল
ল্যাটিন ভাষায়:
Septem = সাত
তাই September শব্দের মূল অর্থ দাঁড়ায় “সপ্তম মাস”।
কারণ প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে March ছিল প্রথম মাস।
তাহলে গুনে দেখুন:
March = 1
April = 2
May = 3
June = 4
Quintilis = 5
Sextilis = 6
September = 7
অর্থাৎ September-এর নাম একেবারেই ভুল নয়।
সে সত্যিই একসময় সপ্তম মাস ছিল।
সমস্যা তৈরি হয়েছে পরে, যখন বছরের শুরুতে January এবং February ঢুকে গেল।
তখন September হয়ে গেল নবম মাস।
কিন্তু তার পুরোনো নামটি আর পরিবর্তন করা হলো না।
October কেন “আট”, অথচ এখন দশম?
একই গল্প October-এর ক্ষেত্রেও।
ল্যাটিন:
Octo = আট
প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে October ছিল অষ্টম মাস।
তাই:
October = Eighth month
কিন্তু January ও February যুক্ত হওয়ার পর October দুই ধাপ পিছিয়ে গিয়ে দশম মাস হয়ে গেল।
তবুও তার নাম রয়ে গেল October।
একইভাবে:
November → Novem → নয়
প্রাচীন ক্যালেন্ডারে এটি ছিল নবম মাস।
আর
December → Decem → দশ
প্রাচীন ক্যালেন্ডারে এটি ছিল দশম মাস।
আজ তারা যথাক্রমে ১১তম ও ১২তম মাস।
অর্থাৎ September থেকে December পর্যন্ত চারটি নাম আসলে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুরোনো ১০ মাসের ক্যালেন্ডারের জীবন্ত স্মৃতি।
তাহলে January ও February কোথা থেকে এলো?
এবার আসল পরিবর্তন।
প্রাচীন রোমের কৃষিভিত্তিক সমাজে শীতকাল ছিল তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় সময়। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়, বছরের এই শীতকালকে প্রাথমিক ১০ মাসের কাঠামোর বাইরে রাখা হয়েছিল।
পরবর্তীতে রোমের দ্বিতীয় রাজা হিসেবে পরিচিত Numa Pompilius-এর সঙ্গে ক্যালেন্ডার সংস্কারের কৃতিত্ব জুড়ে দেওয়া হয়।
তাঁর সময়েই January ও February যুক্ত করার কথা প্রাচীন সূত্রগুলোতে পাওয়া যায়।
এই দুই মাসকে শীতকালকে ক্যালেন্ডারের মধ্যে আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়।
ফলে:
১০ মাস + January + February = ১২ মাস।
এখানে অবশ্য ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে। Numa-এর ক্যালেন্ডার সংস্কারের কাহিনিও প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। পরবর্তী গবেষণায় প্রাথমিক রোমান ক্যালেন্ডারের প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই “একদিন Numa এসে ঠিক এইভাবেই দুই মাস যোগ করেছিলেন” এটিকে সরল, নিশ্চিত ইতিহাস হিসেবে বলা ঠিক হবে না।
January-এর নামের পেছনে কে?
January এসেছে ল্যাটিন Ianuarius থেকে।
এর উৎস Janus।
Janus ছিলেন রোমান ধর্মবিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেবতা, যাঁকে সাধারণত দুই মুখবিশিষ্ট হিসেবে কল্পনা করা হতো।
একটি মুখ অতীতের দিকে, অন্যটি ভবিষ্যতের দিকে।
দরজা, প্রবেশপথ, পরিবর্তন ও নতুন সূচনার সঙ্গে Janus-এর সম্পর্ক ছিল।
এ কারণেই বছরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়ার মাস হিসেবে January-এর নামের সঙ্গে Janus-এর সম্পর্ক অত্যন্ত অর্থবহ।
এক অর্থে January যেন বলছে:
পেছনে তাকাও, আবার সামনে এগিয়ে যাও।
British Museum-ও January-এর নামের উৎস হিসেবে Roman god Janus-কে উল্লেখ করেছে।
February কেন এত ছোট?
February-এর ইতিহাস আরও আকর্ষণীয়।
February এসেছে ল্যাটিন Februarius থেকে। এর সঙ্গে Februa নামের purification বা শুদ্ধিকরণ-সংক্রান্ত রোমান আচার-অনুষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে বলে ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় পাওয়া যায়।
অর্থাৎ February-এর নামের মধ্যে ছিল শুদ্ধিকরণ ও পরিশুদ্ধির ধারণা।
এটি কৃষি বছরের নতুন কাজ শুরুর আগে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে ব্যাখ্যা করা হয়।
আর February কেন মাত্র ২৮ দিন?
এর উত্তরও রোমান ক্যালেন্ডারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত।
প্রাচীন রোমানদের মাসের দিনসংখ্যা নিয়ে নানা পরিবর্তন ছিল। পরে Julian calendar-এর সংস্কারের সময় মাসগুলোর দৈর্ঘ্য অনেক বেশি স্থিতিশীল রূপ পায়।
আজকের February তাই সাধারণ বছরে ২৮ দিন এবং leap year-এ ২৯ দিন।
March কেন একসময় বছরের প্রথম মাস ছিল?
আজ March হলো তৃতীয় মাস।
কিন্তু প্রাচীন রোমে এটি ছিল বছরের প্রথম মাস।
March-এর ল্যাটিন নাম ছিল Martius।
এটি এসেছে রোমান যুদ্ধদেবতা Mars-এর নাম থেকে।
প্রাচীন কৃষি ও সামরিক জীবনে বসন্ত ছিল নতুন কাজ শুরু করার সময়। শীতের পর কৃষিকাজ ও সামরিক অভিযান আবার সক্রিয় হতো।
তাই বছরের শুরু March থেকে হওয়া একেবারে অস্বাভাবিক ছিল না।
British Museum-এর তথ্য অনুযায়ী, January ও February পরবর্তীকালে যুক্ত হওয়ার আগে Roman calendar March থেকেই শুরু হতো।
April-এর নাম কি সত্যিই “ফুল ফোটার মাস”?
April-এর নাম নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত ঐকমত্য নেই।
একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো এটি ল্যাটিন aperire, অর্থাৎ “খোলা” থেকে এসেছে।
বসন্তে প্রকৃতি যেন খুলে যায়, ফুল ফোটে, নতুন জীবন শুরু হয়।
তবে Aprilis-এর প্রকৃত উৎস নিয়ে অন্য ব্যাখ্যাও আছে এবং এটিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
অর্থাৎ January, March, July, August কিংবা September-এর উৎস যেখানে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার, April-এর ক্ষেত্রে কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।
May-এর নাম কোথা থেকে?
May-এর ল্যাটিন নাম Maius।
এটি সাধারণত Maia নামের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
Maia ছিলেন প্রাচীন গ্রিক-রোমান ঐতিহ্যের একটি দেবীসত্তা।
তবে May-এর নামের উৎস নিয়েও কিছু বিকল্প ব্যাখ্যা রয়েছে।
June-এর নাম Juno থেকে
June এসেছে Iunius থেকে।
এটির সঙ্গে রোমান দেবী Juno-এর সম্পর্ক রয়েছে।
Juno ছিলেন Jupiter-এর স্ত্রী এবং রোমান ধর্মবিশ্বাসে বিবাহ, নারী ও পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দেবী।
এই কারণেই June-এর নামের ইতিহাস রোমান ধর্মীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তারপর এলো Quintilis: অর্থাৎ “পঞ্চম”
এখানে ইতিহাস আরও মজার।
আজ আমরা যাকে July বলি, তার পুরোনো নাম ছিল:
Quintilis
ল্যাটিন quinque অর্থ পাঁচ।
কারণ March থেকে বছর শুরু করলে:
March = 1
April = 2
May = 3
June = 4
Quintilis = 5
অর্থাৎ Quintilis-এর অর্থ ছিল পঞ্চম মাস।
তখনো July নামে কোনো মাস ছিল না।
Julius Caesar এসে Quintilis হয়ে গেল July
খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালে Julius Caesar-এর মৃত্যুর পর তাঁর সম্মানে Quintilis-এর নাম পরিবর্তন করে Julius করা হয়।
পরবর্তীতে সেই নাম থেকেই ইংরেজি July।
অর্থাৎ July কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা, ঋতু বা সংখ্যার নাম নয়।
এটি একজন মানুষের নাম থেকে এসেছে।
Julius Caesar-এর নাম অমর হয়ে গেল একটি মাসের নামের মধ্যে।
August-এর গল্প আরও চমকপ্রদ
এখানে একটি ভুল ধারণা পরিষ্কার করা জরুরি।
রোমের প্রতিষ্ঠাতা Romulus August মাসের নাম দেননি।
August-এর প্রাচীন নাম ছিল:
Sextilis
ল্যাটিন sex বা sextus-এর সঙ্গে সম্পর্কিত এই নামের অর্থ ছিল ষষ্ঠ।
কারণ March থেকে গণনা করলে:
March = 1
April = 2
May = 3
June = 4
Quintilis = 5
Sextilis = 6
তাই Sextilis ছিল ষষ্ঠ মাস।
পরবর্তীতে Julius Caesar-এর উত্তরসূরি এবং রোমের প্রথম সম্রাট Augustus-এর সম্মানে Sextilis-এর নাম পরিবর্তন করে Augustus করা হয়।
সেখান থেকেই আজকের August।
British Museum-ও July ও August-এর নাম Julius Caesar এবং Augustus-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে।
তাহলে Augustus কি নিজের নামে মাস বানিয়েছিলেন?
হ্যাঁ, তবে বিষয়টি একটু সূক্ষ্ম।
Augustus-এর নামের সঙ্গে মাসটির নাম যুক্ত করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৮ সালে।
তার আগে মাসটির নাম ছিল Sextilis।
অর্থাৎ আজকের August হলো এমন একটি মাস যার নাম একজন রোমান সম্রাটের নাম থেকে এসেছে।
আর তার ঠিক আগের মাস July এসেছে Julius Caesar-এর নাম থেকে।
অর্থাৎ বছরের মাঝখানে পরপর দুই মাস:
July → Julius Caesar
August → Augustus
এ যেন রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস ক্যালেন্ডারের পাতায় স্থায়ীভাবে লিখে রাখা হয়েছে।
September থেকে December কেন নাম বদলালো না?
এটাই সবচেয়ে সুন্দর প্রশ্ন।
যখন January ও February যুক্ত হলো, তখন September আর সপ্তম রইল না।
September হলো নবম।
October হলো দশম।
November হলো একাদশ।
December হলো দ্বাদশ।
তাহলে নাম বদলে ফেলা হলো না কেন?
কারণ একটি ক্যালেন্ডার শুধু সংখ্যা নয়। এটি প্রশাসন, ধর্ম, কৃষি, সামাজিক রীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
একটি মাসের নাম বদলানো মানে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি শব্দ বদলানো নয়।
প্রশাসনিক নথি, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বাণিজ্যিক হিসাব, ঐতিহাসিক দলিল, মানুষের অভ্যাস, সবকিছুর সঙ্গে সেই নাম জড়িয়ে যায়।
ফলে পুরোনো নামগুলো টিকে গেল।
আজও আমরা সেই কয়েক হাজার বছরের পুরোনো সংখ্যার স্মৃতি বহন করছি:
September = 7
October = 8
November = 9
December = 10
যদিও আধুনিক ক্যালেন্ডারে তারা 9, 10, 11 ও 12 নম্বরে।
Julius Caesar শুধু মাসের নাম বদলাননি
ক্যালেন্ডারের ইতিহাসে Julius Caesar-এর ভূমিকা আরও অনেক বড়।
রোমান ক্যালেন্ডার দীর্ঘদিন ধরে চাঁদ, ঋতু এবং রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত অতিরিক্ত মাসের জটিলতার মধ্যে ছিল।
সমস্যা ছিল, প্রকৃত সৌর বছরের সঙ্গে ক্যালেন্ডারের বছর ঠিকমতো মিলছিল না।
ফলে ঋতুর সঙ্গে ক্যালেন্ডারের তারিখ ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিল।
Caesar খ্রিস্টপূর্ব ৪৫ সালে একটি বড় সংস্কার করেন।
এটি ইতিহাসে পরিচিত হয়:
Julian Calendar
নামে।
এতে সৌর বছরের দৈর্ঘ্যকে ভিত্তি করে ৩৬৫ দিনের বছর এবং নির্দিষ্ট ব্যবধানে leap year-এর ব্যবস্থা করা হয়।
৪৬ খ্রিস্টপূর্ব: “Year of Confusion”
ক্যালেন্ডারকে আবার ঋতুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে Julius Caesar-কে এক বিশেষ বছর তৈরি করতে হয়েছিল।
এই বছরটি ছিল অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ।
ইতিহাসে এটি পরিচিত:
Year of Confusion
নামে।
পুরোনো ক্যালেন্ডারের জমে থাকা অসামঞ্জস্য দূর করতে অতিরিক্ত দিন ও মাস যোগ করা হয়েছিল।
এক পর্যায়ে সেই বছর মোট ৪৪৫ দিন পর্যন্ত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।
ভাবুন তো!
একটি ক্যালেন্ডার ঠিক করার জন্য এমন একটি বছর, যার মধ্যে প্রায় দেড় বছরের সমান দিন!
তারপর থেকে Julian calendar নতুন কাঠামোয় চলতে শুরু করে।
তাহলে আমরা আজ Caesar-এর ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি?
পুরোপুরি নয়।
আজ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ব্যবহৃত হয়:
Gregorian Calendar
এটি মূলত Julian calendar-এর আরও নিখুঁত সংস্করণ।
Julian calendar-এ leap year-এর নিয়ম ছিল প্রতি চার বছর পরপর একটি অতিরিক্ত দিন।
কিন্তু সৌর বছর আসলে ঠিক ৩৬৫.২৫ দিন নয়।
এই সামান্য পার্থক্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমতে থাকে।
ফলে ক্যালেন্ডারের তারিখ ও প্রকৃত ঋতুর মধ্যে পার্থক্য তৈরি হতে থাকে।
১৫৮২ সালে আবার ক্যালেন্ডার বদলাল
অবশেষে ১৫৮২ সালে Pope Gregory XIII-এর সময় বড় ধরনের ক্যালেন্ডার সংস্কার করা হয়।
এটি হলো:
Gregorian Calendar
এই সংস্কারে Julian calendar-এর জমে থাকা পার্থক্য সংশোধন করা হয়।
Leap year-এর নিয়মও পরিবর্তন করা হয়।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী:
যে বছর ৪ দিয়ে বিভাজ্য, সাধারণত leap year।
কিন্তু শতাব্দী বছর যেমন 1700, 1800, 1900 leap year নয়।
তবে 400 দিয়ে বিভাজ্য শতাব্দী বছর, যেমন 1600 ও 2000, leap year।
এই নিয়মই Gregorian calendar-কে সৌর বছরের সঙ্গে অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে।
তাহলে আজকের ১২ মাস আসলে কী?
আজকের January থেকে December পর্যন্ত ১২ মাসের নামগুলো একবার পাশাপাশি রাখলে পুরো ইতিহাসটি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
| মাস | নামের উৎস / অর্থ |
|---|---|
| January | Janus-এর নাম থেকে |
| February | Februa, শুদ্ধিকরণ-সংক্রান্ত রোমান আচার |
| March | Mars, রোমান যুদ্ধদেবতা |
| April | উৎস নিয়ে অনিশ্চয়তা; aperire “খোলা” একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা |
| May | Maia-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রচলিত |
| June | Juno-এর নাম থেকে |
| July | Julius Caesar-এর নাম থেকে; আগে Quintilis |
| August | Augustus-এর নাম থেকে; আগে Sextilis |
| September | Latin septem = সাত |
| October | Latin octo = আট |
| November | Latin novem = নয় |
| December | Latin decem = দশ |
এই তালিকার শেষ চারটি নামই সবচেয়ে চমৎকার প্রমাণ যে আজকের ক্যালেন্ডার আসলে বহু পুরোনো একটি ক্যালেন্ডারের স্তরগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার: ক্যালেন্ডার আসলে ইতিহাসের একটি টাইম ক্যাপসুল
আজ আমরা যখন বলি:
September 15
তখন আমরা অজান্তেই প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো একটি ভাষাগত স্মৃতি ব্যবহার করছি।
“September” শব্দটি যেন আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে:
একসময় এই মাসটি ছিল বছরের সপ্তম মাস।
“October” বলছে:
আমি একসময় ছিলাম অষ্টম।
“November” বলছে:
আমার নামের অর্থ নয়।
“December” বলছে:
আমি একসময় ছিলাম দশম।
আর July ও August যেন আরও সরাসরি ইতিহাসের দুই ব্যক্তিকে সামনে নিয়ে আসে:
Julius Caesar
এবং
Augustus Caesar
অর্থাৎ আমাদের ক্যালেন্ডার শুধু দিন গোনার যন্ত্র নয়।
এটি একটি সভ্যতার স্মৃতি।
তবে “Romulus-এর ১০ মাসের ক্যালেন্ডার” কতটা সত্য?
এখানেই ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।
অনলাইনে প্রায়ই বলা হয়:
“Romulus একটি ১০ মাসের ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিলেন। এরপর Numa এসে January ও February যোগ করেন।”
এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা নয়, কিন্তু এটিকে প্রমাণিত সরল ইতিহাস বলাও ঠিক নয়।
কারণ Romulus এবং Numa-এর সময়কার ক্যালেন্ডার সম্পর্কে আমাদের অনেক তথ্য এসেছে বহু পরে লেখা রোমান লেখকদের কাছ থেকে।
Royal Observatory of Belgium স্পষ্টভাবে বলছে, প্রাথমিক Roman calendar সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সীমিত এবং জনপ্রিয় বর্ণনার অনেক অংশ ঐতিহ্য ও অনুমানের সঙ্গে মিশে আছে।
অর্থাৎ সবচেয়ে নিরাপদভাবে বলা যায়:
রোমান ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রাথমিক ক্যালেন্ডার ১০ মাসের ছিল এবং March থেকে শুরু হতো। পরে January ও February-কে অন্তর্ভুক্ত করে ১২ মাসের কাঠামো তৈরি হয়।
এটাই মূল ঐতিহাসিক ধারাটি বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায়।
শেষ কথা: আমরা আসলে শুধু তারিখ লিখি না
আমরা যখন লিখি:
January 1
আমরা Janus-এর নাম বহন করি।
March
লিখলে Mars-এর কথা মনে পড়ে।
July
লিখলে Julius Caesar-এর স্মৃতি আসে।
August
লিখলে Augustus-এর নাম চলে আসে।
আর যখন লিখি:
September, October, November, December
তখন আমরা এমন একটি পুরোনো ক্যালেন্ডারের সংখ্যাগুলো ব্যবহার করি, যার কাঠামো আজ আর নেই।
সেপ্টেম্বর এখন নবম মাস, কিন্তু তার নাম এখনো বলে সাত।
অক্টোবর এখন দশম, কিন্তু তার নাম বলে আট।
নভেম্বর এখন একাদশ, কিন্তু তার নাম বলে নয়।
ডিসেম্বর এখন দ্বাদশ, কিন্তু তার নাম বলে দশ।
এ যেন সময়ের এক অদ্ভুত খেলা।
ক্যালেন্ডার বদলেছে, মাসের অবস্থান বদলেছে, সাম্রাজ্য বিলীন হয়েছে, রাজা-সম্রাট চলে গেছেন, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাল্টেছে, এমনকি পৃথিবীকে সময় মাপার পদ্ধতিও বহুবার সংস্কার হয়েছে।
কিন্তু কয়েক হাজার বছর আগের কিছু শব্দ এখনো আমাদের মুখে বেঁচে আছে।
তাই পরেরবার যখন ক্যালেন্ডারে September দেখবেন, একটু থামুন।
মনে রাখবেন, সেই নামের ভেতরে এখনো লুকিয়ে আছে একটি হারিয়ে যাওয়া পৃথিবীর সংখ্যা:
সাত।
আর October, November ও December যেন সেই হারিয়ে যাওয়া পৃথিবীর আরও তিনটি দরজা।
আমাদের ক্যালেন্ডার তাই শুধু সময়কে ভাগ করে না।
ক্যালেন্ডার নিজেই সময়ের ইতিহাস বহন করে।

0 মন্তব্যসমূহ